পশ্চিমবঙ্গের অনেক উপভোক্তা এখনও অনলাইনে জয় বাংলার স্ট্যাটাস, পেনশনের টাকা ঢুকল কি না, উপভোক্তার তালিকা কিংবা আবেদনের খবর খুঁজে থাকেন। তবে এই পরিষেবার জন্য যে মাধ্যম ব্যবহার হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে গিয়েছে। আগে বেশ কয়েকটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের তথ্য জয় বাংলার মাধ্যমে দেখা যেত। এখন উপভোক্তার তথ্য যাচাই এবং টাকা পাঠানোর হিসেব দেখা হয় সরকারি সমর্থ পোর্টাল-এ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের উপভোক্তার বিবরণ, আবেদনের অবস্থা, অনুমোদনের খবর এবং পেনশনের পেমেন্টের তথ্য জানার মূল ঠিকানা এই সমর্থ পোর্টাল।
সমর্থ পোর্টাল পশ্চিমবঙ্গ কী?
সমর্থ পোর্টাল হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি পোর্টাল, যেখানে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও পেনশন প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্য রাখা হয় এবং টাকা কবে, কতটা গেল তার হিসেবও নজরে রাখা যায়। এখানে বসেই উপভোক্তা নিজের রেকর্ড মিলিয়ে নিতে পারেন, আবেদন কতদূর এগোল দেখতে পারেন এবং পেনশনের টাকা পাঠানো হয়েছে কি না জানতে পারেন। এর জন্য আলাদা করে সরকারি অফিসে ছুটতে হয় না।
পোর্টালটি তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি)-এর কারিগরি সহায়তায়, আর এটি পরিচালনা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর। উদ্দেশ্য একটাই: প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য এবং টাকা ছাড়ার খবর এক জায়গায়, অনলাইনে পাওয়া।
জয় বাংলা পোর্টাল থেকে সমর্থ পোর্টাল: কী বদল হয়েছে?
অনেকে এখনও অনলাইনে "জয় বাংলা পোর্টাল" লিখেই খোঁজ করেন, কারণ জয় বাংলার অধীনে থাকা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি আজও চালু আছে। বদলেছে শুধু উপভোক্তার রেকর্ড দেখার ডিজিটাল মাধ্যম।
জয় বাংলা এখনও সেই বড় ছাতা-উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে, যার আওতায় প্রবীণ নাগরিক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি, লোকশিল্পী, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং অন্যান্য যোগ্য গোষ্ঠীর জন্য একাধিক পেনশন ও সহায়তা প্রকল্প রয়েছে।
আর সমর্থ হল সেই মাধ্যম, যেখানে এখন উপভোক্তারা নিজের রেকর্ড দেখেন, অনুমোদন হয়েছে কি না যাচাই করেন এবং পেনশনের পেমেন্টের তথ্য জানতে পারেন।
সহজ কথায়, সুবিধা মেলে জয় বাংলার প্রকল্পে, কিন্তু অবস্থা আর পেমেন্ট দেখতে হয় সমর্থ পোর্টাল-এ।
এক নজরে সমর্থ পোর্টাল
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সরকারি পোর্টাল | samarth.wb.gov.in |
| উদ্দেশ্য | উপভোক্তার খোঁজ, আবেদনের অবস্থা দেখা এবং পেমেন্টের হিসেব রাখা |
| পরিচালনায় | অর্থ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| তৈরি করেছে | ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি) |
| কী কী পরিষেবা মেলে | আবেদনের অবস্থা, পেমেন্টের অবস্থা ও উপভোক্তার খোঁজ |
| খোঁজার উপায় | উপভোক্তা আইডি, আধার নম্বর ও মোবাইল নম্বর |
| লগইন লাগে কি | না |
| টাকা পাওয়ার মাধ্যম | ডিবিটি, অর্থাৎ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা |
| কারা সুবিধা পান | প্রবীণ নাগরিক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তপশিলি জাতি ও উপজাতি-সহ অন্যান্য যোগ্য গোষ্ঠী |
সমর্থ পোর্টালে জয় বাংলা প্রকল্পের স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন
আবেদন ও পেমেন্টের অবস্থা দেখতে কোনও অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। নিচের ধাপগুলি একে একে অনুসরণ করুন।
- সরকারি সমর্থ পোর্টাল-এর অবস্থা দেখার পাতাটি খুলুন।
- আবেদনকারীর খোঁজ ও পেমেন্টের অবস্থা দেখুন বিভাগে যান।
- তালিকা থেকে নিজের প্রকল্পটি বেছে নিন।
- উপভোক্তা আইডি, আধার নম্বর কিংবা মোবাইল নম্বর, এর মধ্যে যেটি হাতের কাছে আছে, সেই উপায়টি বেছে নিন।
- চাওয়া তথ্য এবং ক্যাপচা কোড লিখুন।
- জমা দিন বোতামে ক্লিক করুন।
- পর্দায় উপভোক্তার বিবরণ, আবেদনের অবস্থা, অনুমোদনের তথ্য ও পেমেন্টের ইতিহাস দেখতে পাবেন।
পোর্টালের পাতায় এই লেখাগুলি ইংরেজিতে দেখালেও কাজ একই। অবস্থা দেখার জন্য আলাদা করে উপভোক্তার লগইনের দরকার হয় না।
বার্ধক্য ভাতা ও পেনশনের টাকার অবস্থা কীভাবে দেখবেন
মহিলা ও শিশুবিকাশ দপ্তরের বার্ধক্য ভাতা, তপশিলি বন্ধু, জয় জোহার, কৃষকদের বার্ধক্য ভাতা কিংবা মৎস্যজীবীদের বার্ধক্য ভাতার মতো প্রকল্পে যাঁরা সুবিধা পান, তাঁরা সরকারি সমর্থ পোর্টালের অবস্থা দেখার পাতা-য় গিয়ে নিজের উপভোক্তার তথ্য ও পেমেন্টের রেকর্ড মিলিয়ে দেখতে পারেন।
ধাপ ১: ব্রাউজারে সমর্থ পোর্টালের আবেদনকারীর খোঁজের পাতা খুলুন।
ধাপ ২: প্রকল্পের তালিকা থেকে যে বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পে আপনি সুবিধা পান, সেটি বেছে নিন।
ধাপ ৩: উপভোক্তা আইডি, আধার নম্বর কিংবা নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর, যে কোনও একটি দিয়ে খোঁজ করুন।
ধাপ ৪: পর্দায় দেখানো ক্যাপচা কোড-সহ চাওয়া তথ্য মন দিয়ে লিখুন।
ধাপ ৫: জমা দিন বোতামে ক্লিক করে উপভোক্তার তালিকায় খুঁজে দেখুন।
ধাপ ৬: যে তথ্য আসবে তা ভালো করে দেখে নিন। সেখানে উপভোক্তার বিবরণ, আবেদন অনুমোদনের অবস্থা, পেনশন ছাড়ার তথ্য এবং সাম্প্রতিক পেমেন্টের রেকর্ড থাকতে পারে।
কোনও ফল না এলে আগে দেখে নিন প্রকল্পটি ঠিক বাছা হয়েছে কি না। অন্য উপায়েও খুঁজে দেখতে পারেন, যেমন আধার নম্বর বা উপভোক্তা আইডি। কারণ পুরনো বা বদলে যাওয়া মোবাইল নম্বর দিয়ে রেকর্ড সবসময় পাওয়া যায় না।
পেনশন অনুমোদন হয়েছে কি না, টাকা ছাড়া হয়েছে কি না, কিংবা সিস্টেমে নিজের রেকর্ড সচল আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে চাইলে এই সুবিধা বিশেষ কাজে আসে।
উপভোক্তার রেকর্ড খোঁজার উপায়
| খোঁজার উপায় | কখন কাজে লাগবে |
|---|---|
| উপভোক্তা আইডি | উপভোক্তা নম্বর হাতে থাকলে এটিই সবচেয়ে নির্ভুল পথ। |
| মোবাইল নম্বর | নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর না বদলে থাকলে কাজে দেয়। |
| আধার নম্বর | মোবাইল নম্বর বদলে গেলে বা উপভোক্তা আইডি না পেলে এটিই সেরা বিকল্প। |
খোঁজ করে কিছু না পেলে আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে ধরে নেওয়ার আগে অন্য উপায়েও একবার চেষ্টা করে দেখুন।
সমর্থ পোর্টালে আবেদনের অবস্থার মানে কী
পোর্টালে যে অবস্থা দেখায়, তা থেকে বোঝা যায় আপনার আবেদন এখন কোন ধাপে আছে।
| অবস্থা | মানে |
|---|---|
| বিচারাধীন | আবেদন যাচাইয়ের অপেক্ষায় আছে, কিংবা অনুমোদনের অপেক্ষায়। |
| অনুমোদিত | আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। |
| বাতিল | যোগ্যতা বা নথির কোনও কারণে আবেদন মঞ্জুর হয়নি। |
অবস্থা "বিচারাধীন" দেখালে কী করবেন?
অবস্থা বিচারাধীন দেখালে বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই এখনও শেষ হয়নি।
যে অফিসের মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়েছিলেন, সেখানে যোগাযোগ করুন। যেমন:
- ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (বিডিও)
- মহকুমা শাসকের কার্যালয় (এসডিও)
- পৌরসভা
- পুরনিগম
অফিসে যাওয়ার সময় আধার কার্ড, আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকারের তথ্য এবং অন্যান্য সহায়ক নথি সঙ্গে রাখুন। আপনার আবেদন এখন অনুমোদন, নথি যাচাই, নাকি মাঠ পর্যায়ের যাচাইয়ের অপেক্ষায়, আধিকারিকরা তা বলে দিতে পারবেন।
বিচারাধীন মানেই বাতিল নয়। অনেক ক্ষেত্রে যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন এই অবস্থাতেই থাকে।
অবস্থা "অনুমোদিত" দেখালে কী বুঝবেন?
অনুমোদিত মানে উপভোক্তার যাচাই সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং সুবিধা মঞ্জুর হয়েছে।
অনুমোদন মিললে সাধারণত নতুন করে আবেদন করতে হয় না। এর পরের ধাপ হল প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পেনশনের টাকা ছাড়া।
অনুমোদন আর প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকার মধ্যে কিছুটা সময় লাগতে পারে। মাঝেমধ্যে পেমেন্টের অবস্থা দেখতে থাকুন এবং পরের পেমেন্ট চক্র পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
সমর্থ পোর্টালে কোন কোন প্রকল্প রয়েছে
অবস্থা দেখার সময় ঠিক প্রকল্পটি বাছা জরুরি, কারণ প্রতিটি প্রকল্পের উপভোক্তার রেকর্ড আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হয়।
জাতিভিত্তিক পেনশন প্রকল্প
| প্রকল্প | কারা পাবেন |
|---|---|
| তপশিলি বন্ধু | ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী তপশিলি জাতির মানুষ। |
| জয় জোহার | ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী তপশিলি উপজাতির মানুষ। |
| তপশিলি উপজাতির পূর্বতন বার্ধক্য ভাতা | আগেকার ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে আনা উপজাতি পেনশনভোগীরা। |
মহিলা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী পেনশন প্রকল্প
| প্রকল্প | কারা পাবেন |
|---|---|
| মহিলা ও শিশুবিকাশ দপ্তরের বার্ধক্য ভাতা | ওই দপ্তরের আওতায় থাকা যোগ্য প্রবীণ নাগরিক। |
| মহিলা ও শিশুবিকাশ দপ্তরের বিধবা ভাতা | ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বিধবা মহিলা। |
| মহিলা ও শিশুবিকাশ দপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতা | আইন-নির্ধারিত মাত্রার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং বৈধ প্রতিবন্ধী শংসাপত্র আছে, এমন ব্যক্তি। |
পেশাভিত্তিক পেনশন প্রকল্প
| প্রকল্প | কারা পাবেন |
|---|---|
| কৃষকদের বার্ধক্য ভাতা | প্রকল্পের শর্ত পূরণ করা নথিভুক্ত কৃষক। |
| মৎস্যজীবীদের বার্ধক্য ভাতা | নথিভুক্ত মৎস্যজীবী। |
| বস্ত্রশিল্পের পেনশন | যোগ্য বস্ত্র ও তাঁতশিল্পের কর্মী। |
| ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) ক্ষেত্রের পেনশন | যোগ্য এমএসএমই ক্ষেত্রের কর্মী। |
| পুরোহিতদের জন্য রাজ্য কল্যাণ প্রকল্প | নথিভুক্ত হিন্দু পুরোহিত। |
লোকপ্রসার প্রকল্পের বিভাগ
| বিভাগ | কারা এর আওতায় পড়েন |
|---|---|
| লোকপ্রসার রিটেইনার | ৬০ বছরের কম বয়সী নথিভুক্ত লোকশিল্পী। |
| লোকপ্রসার পেনশনভোগী | ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী নথিভুক্ত লোকশিল্পী। |
এক বিভাগে রেকর্ড না পেলে অন্য বিভাগটিও দেখে নিন, কারণ বয়সের সীমা পেরোলে অনেক সময় রেকর্ড এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে সরে যায়।
সমর্থ পোর্টালে কি আবেদন করা যায়?
না। সমর্থ পোর্টাল মূলত উপভোক্তার অবস্থা ও পেমেন্ট দেখার জন্যই তৈরি।
নতুন আবেদন সাধারণত জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে, যেমন বিডিও অফিস, এসডিও অফিস, পৌরসভা বা পুরনিগম। কোথায় জমা দেবেন, তা নির্ভর করে আপনার প্রকল্প এবং বাসস্থানের উপর।
যাচাই ও অনুমোদন শেষ হলে উপভোক্তার রেকর্ড পোর্টালে এসে যায়। তখন থেকে অনলাইনে তা দেখে নেওয়া যায়।
অন্যান্য কল্যাণমূলক পরিষেবার জন্য নাম নথিভুক্ত করতে চাইলে সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালও কাজে আসতে পারে।
অবস্থা দেখতে গিয়ে যে সমস্যাগুলি হয়
- মোবাইল নম্বর দিয়ে খুঁজলে কোনও ফল আসে না।
- ভুল প্রকল্প বাছা হয়েছে।
- উপভোক্তা আইডি ভুল লেখা হয়েছে।
- লোকপ্রসার রিটেইনার আর লোকপ্রসার পেনশনভোগী বিভাগ গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।
- ভুল পেনশন প্রকল্পে খোঁজা হচ্ছে।
- অনুমোদন মিলেছে মানেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা ছাড়া হবে, এমন ধরে নেওয়া হয়েছে।
সঠিক প্রকল্প বেছে নিয়ে আধার নম্বর বা উপভোক্তা আইডি দিয়ে খুঁজলে খোঁজার বেশিরভাগ সমস্যাই মিটে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক
| সমর্থ পোর্টাল | পোর্টালে যান |
| সমর্থ পোর্টালে আবেদনের অবস্থা দেখা | এখানে যান |
| সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল | পোর্টালে যান |
নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন